মাত্র তিন সেকেন্ডে দূর হবে করোনাভাইরাস!

চীনের উহানে উৎপত্তি হলেও আত্মঘাতি করোনার প্রকোপ এখন সারা দুনিয়ায়। বিশ্বের অন্তত ৬০ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি।

বিজ্ঞানীরা ভাইরাসটির প্রতিরোধে নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। মাস্ক পরা, বেশি বেশি হাত ধোয়া, নাকে মুখে হাত না নেয়া এবং ঠাণ্ডাজনিত রোগ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখাসহ অনেক টিপস জানিয়েছেন তারা। তবে এবার বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বেশি বেশি সাবান ব্যবহারের কথা বলছেন।

কভিড-১৯ মোকাবেলায় সাবান বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা। এ জন্য বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট দ্য সেন্টারস ফর ডিজিসেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলেছে, করোনাভাইরাস এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে সংক্রমিত হওয়া থেকে বিরত রাখতে ঘন ঘন হাত ধোয়া ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে টুইট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক ক্যারেন ফ্লেমিং।

কয়েকটি সিরিজ টুইটে তিনি দাবি করেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সাবান একটি ‘আশ্চর্যজনক অস্ত্র’। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সাবানের চেয়ে কার্যকরী আর কিছুই নেই।

আরেকটি টুইটে এ দাবির সপক্ষে যুক্তি দেন ক্যারেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস এক ধরনের ‘সুপ্ত’ ভাইরাস। এর বাইরের অংশ ‘লিপিড মেমব্রেন লেয়ার’ দিয়ে তৈরি। অর্থাৎ এটি চর্বিযুক্ত লেয়ার দিয়ে আবৃত। আর বারবার সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া হলে এর চর্বিযুক্ত আবরণ উঠে যাবে এবং ফলে ভাইরাস নিশ্চিত মারা যাবে।

কতক্ষণ ধরে হাত ধুতে হবে, সে কথাও জানিয়েছেন এই বিজ্ঞানী।

টুইটবার্তায় তিনি বলেন, কতক্ষণ ধরে সাবান ঘষতে হবে সে সময়টি এতই কম যে ঘড়ি ধরে না বলাই শ্রেয়। ধরুন কাউকে দুই বার ‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ’ বলতে যে সময় লাগে অতটুকুন সময় নিয়ে হাতে সাবান ঘষবেন। এর পর তা ফেনাযুক্ত করে ধুয়ে ফেলবেন। প্রাণঘাতী করোনাকে মেরে ফেলতে এই সময়টুকুই যথেষ্ট।

অর্থাৎ ৩ সেকেন্ডেই করোনার জীবাণু মরে শেষ! ক্যারেন এই টুইটি আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ক্যারেনের এসব টুইটে সমর্থন রয়েছে অনেক ভাইরোলজিস্টের।

তবে তারা বলেছেন, হাতের কাছে সাবান না পেলে এ ক্ষেত্রে হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যেখানে হাত ধোয়া হয়েছে অর্থাৎ ওয়াশরুমকেও ভালোভাবে ধুয়ে নেয়া উচিত। এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশেষ এক সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তা হলো– ছোঁয়াচে এই রোগটি যেন এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে না সংক্রমিত হতে পারে সেজন্য আলিঙ্গন ও কোলাকুলিকে এড়িয়ে চলতে হবে। এক্ষেত্রে ‘হাই-হ্যালো’ তেই পারস্পরিক সৌজন্য বোধটুকু সারতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে চীনে একদিনে আরও ৪২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার চীনে নতুন করে আরও ২০২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮০ হাজার ২৬ জনে। এ নিয়ে চীনে মোট মৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৯১২ জনে।

চীনের বাইরে ইতালিতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার জনে দাঁড়িয়েছে । সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে